বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত—বাঙালির ইতিহাসে এক ভয়াল কালরাত্রি। ওই রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র মানুষের ওপর চালায় ভয়াবহ গণহত্যা। মুহূর্তের মধ্যে শান্ত শহর পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হয়ে ট্যাংক, মেশিনগান ও মর্টার নিয়ে শহরে নেমে আসে হানাদার বাহিনী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানা, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় হাজারো মানুষকে। ঘুমন্ত, নিরস্ত্র মানুষের ওপর এই বর্বর আক্রমণ বিশ্ববিবেককে স্তম্ভিত করে।
এই গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে ওঠে চট্টগ্রামে। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলে। শুরু হয় নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, যার মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
আজ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সারা দেশে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ এবং গণহত্যার আলোকচিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়া মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিহতদের স্মরণে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।
সরকারি নির্দেশনায় রাত ১০টা ৩০ মিনিটে এক মিনিটের জন্য সারাদেশে ব্ল্যাকআউট পালন করা হবে, যা প্রতীকীভাবে সেই অন্ধকার রাতের স্মৃতি বহন করে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা ইতিহাসের এক জঘন্যতম অধ্যায়। তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূল্য উপলব্ধি করতে হলে এই দিনের ইতিহাস জানা জরুরি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
গণহত্যা দিবস জাতিকে মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা কোনো সহজ অর্জন নয়; এটি লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এক অমূল্য সম্পদ।
Leave a Reply